
নিয়মিত বিরতিতে মুনাফা পেতে চান এমন সঞ্চয়কারীদের জন্য রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই সঞ্চয়পত্রে সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে। এর মেয়াদ তিন বছর এবং প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুবিধা রয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রযোজ্য হারে মেয়াদ শেষে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এই সঞ্চয়পত্রের নির্ধারিত মূল্যমান চারটি। চাইলে এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ কিংবা ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
সঞ্চয়পত্রটি কেনা ও নগদায়ন করা যায় যেসব স্থান থেকে—
জেলা সঞ্চয় অফিস
জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো
বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা
বাণিজ্যিক ব্যাংক
ডাকঘর
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সঞ্চয়পত্রটির নির্ধারিত মূল্যমান ও কেনার স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ তিন বছর। এ সময় বিনিয়োগকারী প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা পেতে পারেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে পূর্ণ মেয়াদের মুনাফার হার পাওয়া যায় না।
মেয়াদের আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়ভিত্তিক মুনাফার হার অনুসারে হিসাব করা হয়। আগে বেশি মুনাফা পরিশোধ করা হয়ে থাকলে অতিরিক্ত অর্থ মূল টাকা থেকে কেটে সমন্বয় করা হতে পারে।
২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হার নিচের মতো।
| নগদায়নের সময় | সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত | সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি |
|---|---|---|
| প্রথম বছর শেষে | ১০.৬৫% | ১০.৬০% |
| দ্বিতীয় বছর শেষে | ১১.২২% | ১১.১৬% |
| তৃতীয় বছর শেষে | ১১.৮২% | ১১.৭৭% |
সূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। মুনাফার হার পরিবর্তন হতে পারে; বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ সরকারি হার যাচাই করুন।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে—
১. সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিকের।
২. নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের।
৩. বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণকারী নির্দিষ্ট কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, দুগ্ধ, বীজ উৎপাদন, উদ্যান ও অন্যান্য অনুমোদিত খাতের আয়ের ক্ষেত্রে।
৪. নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী অটিস্টিক ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, দুস্থ ও অনাথ শিশুদের নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রবীণদের নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্রের।
প্রতিষ্ঠানভেদে যোগ্যতা, প্রত্যয়নপত্র ও বিনিয়োগের শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয় অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
সঞ্চয়পত্রটির জন্য বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা বিনিয়োগকারীর ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত।
ব্যক্তি: একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা অথবা যুগ্ম নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা।
স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল: তহবিলের মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, তবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা।
ফার্ম: সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা।
নির্দিষ্ট সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান: প্রযোজ্য শর্তে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা।
একাধিক জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগ থাকলে সম্মিলিত বিনিয়োগসীমার বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই শুধু একটি সঞ্চয়পত্রের সীমা দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সীমা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০৫ ধারার বিধান অনুযায়ী উৎসে কর কাটা হয়। তবে কত হারে কর কাটবে, তা বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
উৎসে কাটা করের হিসাব এবং আয়কর রিটার্নে তা সমন্বয়ের নিয়ম জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, সঞ্চয় অফিস বা কর পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হলো—
প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা পাওয়া যায়।
নমিনি নিয়োগ করা যায়।
ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি বিধি অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন অথবা মেয়াদ পর্যন্ত মুনাফা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
নির্ধারিত নিয়মে মেয়াদপূর্তির পর পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত বিরতিতে মুনাফা পাওয়ার সুবিধা থাকলেও বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক প্রয়োজন, মেয়াদ এবং আগাম নগদায়নের শর্ত বিবেচনা করা জরুরি।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সাধারণ নাগরিকদের জন্য সঞ্চয়ের একটি বিকল্প। তবে মুনাফার হার, উৎসে কর, বিনিয়োগসীমা ও আগাম নগদায়নের নিয়ম সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়াই ভালো।