
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কয়েকজন নেতার সঙ্গে সরকারের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তবে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নাম প্রকাশ করা হলে ওই নেতারা দলের অভ্যন্তরে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রানা সানাউল্লাহ।
রানা সানাউল্লাহ জানান, পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে মাঝেমধ্যে টেলিফোনে এবং জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের অধিবেশন চলাকালে যোগাযোগ হয়। তবে এসব যোগাযোগ এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়েই রয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচনা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে তা আনুষ্ঠানিক সংলাপে রূপ নিতে পারে। কিন্তু এখনই সংশ্লিষ্ট নেতাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। এতে তাঁদের নিজ দলের ভেতরে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের প্রসঙ্গ তুলে রানা সানাউল্লাহ দাবি করেন, আগের দফার আলোচনা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংলাপের পক্ষে থাকা কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপ ও চাপের মুখে পড়েছিলেন। এ কারণে তাঁরা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করতে পারেননি।
তবে এসব বিষয়ে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি।
স্থবির হয়ে পড়া রাজনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাইয়ের বৈঠককে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রানা সানাউল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করতে বিরোধীদলীয় নেতার অনাগ্রহের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন অবস্থানের যৌক্তিকতা নেই। জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিরোধীদলীয় নেতার আসনের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রানা সানাউল্লাহর মতে, রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষকে সংলাপের পথেই ফিরতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগের মাধ্যমে পিটিআই তাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিরোধ মেটাতে দলটি প্রস্তুত—এমন বার্তা নিয়ে এখনো কেউ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি পিটিআইয়ের সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পিটিআই সংসদে উপস্থিত থাকলেও দলটি সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম বর্জন করে আসছে। রাজনৈতিক বিরোধ নিরসন এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া সচল রাখতে এসব কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।