
‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বিতর্কিত মন্তব্যের পর পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আইজিপি হিসেবে তিন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার নাম বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নতুন আইজিপি নিয়োগের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসংবলিত নথি চেয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে কে দায়িত্ব পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারে’ যেতে দ্বিধা করবে না।
একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বল প্রয়োগ করলে তাকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলা হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলা হয়। সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সমালোচনা আসে। কয়েকটি সংগঠন বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। এতে বলা হয়, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি বিচারবহির্ভূত হত্যা বা বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বক্তব্যটি অসাবধানতাবশত এসেছে এবং গণমাধ্যমের সবাইকে উদ্দেশ করে এমন মন্তব্য করার অভিপ্রায় ছিল না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আইজিপির বক্তব্যের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আইজিপি পদে পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারপ্রধানের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, নতুন আইজিপি নিয়োগের আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত আলী হোসেন ফকিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা আসেনি। ফলে বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর্যায়েই রয়েছে।
আইজিপির বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা এবং নতুন নিয়োগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এখন নজর প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে।