
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪০ দিনের সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ২০টির বেশি অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী। একই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও প্রায় ৩০০টি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল জলিল মোকাদ্দাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযান ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকার প্রমাণ। মার্কিন সরকারের ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান এড়িয়ে চলেছে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করেন মোকাদ্দাম। তাঁর দাবি, সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি বাহিনী রণতরিটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সেটিকে লক্ষ্য করে একটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
মোকাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর রণতরিটি তিন দিন বিমান পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। পরে সেটি ইরানের উপকূল থেকে দূরে সরে যায়।
তবে রণতরিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা বা তিন দিন বিমান পরিচালনা বন্ধ থাকার বিষয়ে মার্কিন পক্ষের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়গুলো ইরানি কর্মকর্তার দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আরেকটি অভিযানের বর্ণনায় মোকাদ্দাম বলেন, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হয়রানির ঘটনার পর ডিডিজি ১০৩ (DDG 103) নামে শনাক্ত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।
তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয় ইরানের নৌবাহিনী।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা আরও তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলা চালানোর কথাও জানান তিনি। তবে এসব অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোকাদ্দামের মতে, ৪০ দিনের সংঘাত ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক কৌশল ও যুদ্ধ পরিচালনার নীতি নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ৪০ দিনের সংঘাত থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে অভিযানের অগ্রাধিকার ও সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের এই নৌ-কর্মকর্তা দাবি করেন, ৪০ দিনের সংঘাতের পর দেশটির নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতা ও সরঞ্জামের উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আরও বিস্তৃত পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ ছাড়া আগের সংঘর্ষগুলোতে নিহত নৌসদস্যদের বিষয়সহ ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান মোকাদ্দাম।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক পরিস্থিতি যে দিকেই এগোক না কেন, সম্ভাব্য নতুন সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই এসব অভিযানের তথ্য সামনে এসেছে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ২০টির বেশি অভিযান, আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কিংবা রণতরিটির কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ থাকার দাবিগুলোর স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি অস্বীকার করেছিল। তাই ইরানের সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।