
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অনেকেই ফিশ অয়েল বা মাছের তেলের ক্যাপসুল গ্রহণ করেন। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেও স্মৃতিশক্তি বা চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি নাও হতে পারে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার কেক মেডিসিনের গবেষকেরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইবায়োমেডিসিন সাময়িকীতে। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নিয়মিত ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীরা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষণার প্রধান অনুসন্ধানকারী এবং ইউএসসির সেন্টার ফর পারসোনালাইজড ব্রেন হেলথের পরিচালক হুসেইন নাজি ইয়াসিন বলেন, আলঝেইমার প্রতিরোধের সহজ উপায় খোঁজেন অনেকেই। তবে তাঁদের গবেষণায় ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ওমেগা-৩ শরীরের জন্য অপ্রয়োজনীয়। মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে সংযোগ বজায় রাখতে এই ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা রয়েছে। গবেষণাটিতে মূলত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বা চিন্তাশক্তি বাড়ার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মাছ ছাড়াও আখরোট, তিসি ও চিয়াবীজের মতো খাবারে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। গবেষণার ফল এসব খাবারের পুষ্টিগুণকে অস্বীকার করে না।
ভারতের পি ডি হিন্দুজা হাসপাতাল ও মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ কৌস্তভ মহাজন বলেন, এই গবেষণার ভিত্তিতে মাছ, আখরোট, তিসি বা চিয়াবীজের মতো খাবারে থাকা ওমেগা-৩-এর পুষ্টিগুণ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এসব খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেসব অভ্যাস সহায়ক হতে পারে—
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা।
পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
পড়াশোনা, বই পড়া ও অন্যান্য মানসিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখা।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট পুষ্টিগত চাহিদা পূরণে কিছু মানুষের জন্য ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে আলঝেইমার প্রতিরোধ বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া ঠেকাতে এসব সাপ্লিমেন্ট কার্যকর—এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।