
কোনো নারী ব্যবহার করেন—এমন বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর বিষয়ে শরিয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই শুধু নারীর ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ওই বিছানা নন-মাহরাম পুরুষের জন্য হারাম হয়ে যায় না। তবে প্রয়োজন ছাড়া নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা নন-মাহরাম পুরুষকে ব্যবহার করতে না দেওয়াই উত্তম বলে মত দিয়েছেন এক মুফতি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এমন মতামত দিয়েছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম।
প্রশ্নকারী জানতে চান, একজন নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষ বসতে বা ঘুমাতে পারবেন কি না।
জবাবে মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কোনো নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানোর বিষয়ে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এটি ব্যবহার করা জায়েজ।
তবে প্রয়োজন ছাড়া কোনো নন-মাহরাম পুরুষকে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকাই কাম্য। এতে পর্দা ও শালীনতা বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় সন্দেহ বা ফিতনার আশঙ্কা কমে।
উত্তরে বলা হয়, নারীর ব্যক্তিগত বিছানা তাঁর দাম্পত্য ও একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে কোনো নন-মাহরাম পুরুষ বসা বা শোয়ার কারণে ওই নারী কিংবা তাঁর স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুচিত চিন্তা বা কল্পনা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাই অধিক শালীন ও সতর্কতাপূর্ণ আচরণ। বিশেষ করে যেখানে অপ্রয়োজনীয় কুধারণা বা ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে সতর্ক থাকা উচিত।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরার ৩২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। আয়াতটিতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং নিকৃষ্ট পথ।’
আয়াতটির নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এর দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন পথ ও পরিবেশ থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে উত্তরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহিহ বুখারির ৫২ নম্বর হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। হাদিসের মর্মার্থ হলো, যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিরাপদ রাখে।
এই নির্দেশনার আলোকে অপ্রয়োজনীয় সন্দেহ, কুধারণা বা অনুচিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন কাজ থেকে বিরত থাকাকে উত্তম বলা হয়েছে।
মুফতি আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু কোনো নারী ব্যবহার করেছেন—এই কারণে বিছানাটি নন-মাহরাম পুরুষের জন্য হারাম হয়ে যায় না। অতিথির প্রয়োজনে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে ওই বিছানায় বসা বা ঘুমানো যেতে পারে।
তবে অপ্রয়োজনে নারীর একান্ত ব্যক্তিগত বিছানা ব্যবহার না করাই অধিক শালীন ও উত্তম। বিশেষ করে এতে ফিতনা, কুধারণা বা অনুচিত কল্পনার আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা উচিত।
অর্থাৎ, বিষয়টি সরাসরি হারাম হওয়ার নয়; বরং প্রয়োজন, শালীনতা, পর্দা এবং সম্ভাব্য ফিতনা বিবেচনায় সতর্ক আচরণ করার বিষয়।