
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জীবনে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের পরিকল্পনা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছেও পরীক্ষাটি এতটাই গুরুত্ব বহন করে যে, এতে অকৃতকার্য হওয়াকে অনেকেই জীবনের বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেননি।
যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা হয়তো সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে পাবেন। কিন্তু যাঁরা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের গল্পও এখানেই শেষ হওয়ার কথা নয়। বরং অনেকের ঘুরে দাঁড়ানোর যাত্রা শুরু হতে পারে এই জায়গা থেকেই।
জীবনের প্রথম বড় জাতীয় পরীক্ষায় ব্যর্থতা একজন তরুণ-তরুণীর মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশার চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে ফলাফলের তুলনা, লোকলজ্জা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। কেউ নিজের ওপর আস্থা হারান, কেউ ভাবতে শুরু করেন, সামনে বুঝি আর কোনো পথ খোলা নেই।
কিন্তু একটি পরীক্ষার ফলাফল কি সত্যিই একজন মানুষের মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে?
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর বহু সফল মানুষের জীবনেও এসেছে বড় ধরনের ব্যর্থতা, প্রত্যাখ্যান কিংবা শিক্ষাজীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা। তাঁদের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া আর জীবনে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া এক কথা নয়।