
বিশ্বকাপ আয়োজনের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মূল নথিপত্র নিজেদের কাউন্সিল সদস্যদের দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। তবে এসব নথি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তার নিয়ম মানতে হবে। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনিও বাতিল হওয়া পরিকল্পনাটি নিয়ে আগে ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু কীভাবে প্রকল্পটি তৈরি ও অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
গত মাসে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ এবং সুশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ফিফাকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। সেই চাপের পরই নথি দেখানোর সিদ্ধান্ত এল।
উয়েফার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম কাউন্সিল সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠান। বিবিসি স্পোর্ট চিঠিটি দেখেছে।
চিঠিতে জানানো হয়, কাউন্সিল সদস্যরা প্রকল্পটির ‘মূল নথিপত্র’ দেখতে পারবেন। তবে এ জন্য তাঁদের সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার প্রধান কার্যালয়ে সশরীর উপস্থিত হতে হবে।
গ্রাফস্ট্রোম চিঠিতে লিখেছেন, নথি পর্যালোচনার সময় ‘গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর পর্যালোচনামূলক নীতিমালা’ অনুসরণ করা হবে। এ জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আগ্রহী কাউন্সিল সদস্যদের নাম নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।
তবে ঠিক কোন কোন নথি দেখার সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিবিসি স্পোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ফিফা মনে করে, আজারবাইজানে নতুন যুব বিশ্বকাপ আয়োজন এবং চলতি মাসের শেষ দিকে একটি জরুরি কংগ্রেসের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় উয়েফার বেঁধে দেওয়া দুই সপ্তাহের মধ্যে ১০০টির বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গত অক্টোবরে উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রে প্রমাণ ও নথিপত্র প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। এ কারণে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে ফিফার অবস্থান জটিল হয়ে পড়ে।
গত মাসে পাঠানো চিঠিতে উয়েফা অভিযোগ করে, ফিফা বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
উয়েফার পাঠানো আট পৃষ্ঠার চিঠিতে এফএফই প্রকল্প ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের পেছনের প্রক্রিয়া নিয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
চিঠিতে উয়েফা জানায়, এফএফই প্রকল্প বাতিল করা, ভুল স্বীকার করা কিংবা ভবিষ্যতে সুশাসন সংস্কারের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে মূল প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং যথাসময়ে কেন ফিফা কাউন্সিলকে যুক্ত করা হয়নি, তা জানতে চায় সংস্থাটি।
উয়েফার বক্তব্য, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে হবে; ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়।
ফিফা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে উয়েফা কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করেনি। তবে আগামী বছর ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে এই চিঠির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনফান্তিনোর বিপক্ষে নির্বাচনে দাঁড়াতে আগ্রহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করার সময়সীমা আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
এ বিষয়ে বিবিসি স্পোর্ট উয়েফার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নথি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার পরও ফিফা প্রকল্পটির সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া নিয়ে উয়েফার সব প্রশ্নের জবাব দেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।