
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সীম গ্রুপের একটি টেক্সটাইল কারখানায় এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে নাঈমুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ির টেক এলাকায় কারখানাটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেকানিক্যাল সেকশনের এয়ার কম্প্রেসার রুমে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পরপরই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে পুরো কক্ষে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন আশপাশে থাকা শ্রমিকেরা। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ওই কক্ষে কর্মরত চার শ্রমিক দগ্ধ হন।
দগ্ধ শ্রমিকেরা হলেন ইসমাইল, কামরুল ইসলাম, তপন ও নাঈমুল ইসলাম।
খবর পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দগ্ধ শ্রমিকদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
তবে এয়ার কম্প্রেসার রুমে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ। কারখানার গুরুত্বপূর্ণ ইউটিলিটি সেকশনের এয়ার কম্প্রেসার রুমে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, গণমাধ্যমকর্মীরা প্রবেশ করলে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, কারখানার এইচআর ও প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানে কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এতে একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, কারখানায় কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেনি।
তবে শ্রমিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং চারজন দগ্ধ হন। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে শ্রমিকদের বর্ণনায় পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ এবং দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।