
নেপালের মাউন্ট এভারেস্টসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। নেপালের পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম বসন্ত কুমার বালারামারামাডু। তিনি ভারতের নাগরিক।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে সোলুখুম্বু জেলার একটি হেলিপোর্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সোলুখুম্বু জেলা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীন রাজা বুধাথোকি বলেন, ‘ঘটনাস্থলেই এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে দুটি হেলিকপ্টারের রোটর বা পাখার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর হেলিকপ্টার দুটি বরফে ঢাকা মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এনডিটিভি।
নেপালে পর্যটক, পর্বতারোহী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনে ছোট আকারের হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজেও এসব হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে দেশটির দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সেখানে বিমান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে হিমালয়ের উঁচু এলাকায় বায়ুর ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কমে গেলে হেলিকপ্টারের রোটর পর্যাপ্ত উত্তোলনক্ষমতা তৈরি করতে পারে না। একই সঙ্গে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় পাইলটদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়।
দুটি হেলিকপ্টারের রোটরের মধ্যে কীভাবে সংঘর্ষ হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।