
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অনাগরিকদের ভোট হিসেবে সন্দেহ করা ব্যালট আলাদা করে রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের করা এ আবেদন সোমবার নাকচ করেন আদালত।
এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যালটের গণনা বন্ধ রাখতে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতে পারছে না কেন্দ্রীয় সরকার।
বিচার বিভাগ দাবি করেছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় প্রায় ২০ হাজার অনাগরিকের নাম রয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেস ও স্যাক্রামেন্টোর নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে একটি ইউএসবি ড্রাইভে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম পাঠানো হয়। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তালিকাটি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের ব্যালট আলাদা করে রাখার দাবিও জানায় বিচার বিভাগ। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা এ নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি নিয়ে আইনি বিরোধ শুরু হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আবেদন খারিজের পক্ষে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে করা আবেদনের ক্ষেত্রে আদালতের এমন সংক্ষিপ্ত আদেশ প্রচলিত। এ বিষয়ে কোনো বিচারপতিও ভিন্নমত প্রকাশ করেননি।
ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা এবং ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বিচার বিভাগের দেওয়া তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তা ডিন লোগান বলেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা ভোট দেওয়ার অযোগ্য—এমন দাবির পক্ষে বিচার বিভাগ কোনো প্রমাণ, তথ্যসূত্র কিংবা যাচাইয়ের পদ্ধতি প্রকাশ করেনি।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টাও বলেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর প্রশাসনিক প্রচেষ্টা বন্ধ হওয়া উচিত।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ডেভিড কার্টার ট্রাম্প প্রশাসনের একই ধরনের আবেদন নাকচ করেন। পরে আপিল আদালতও প্রশাসনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এ ছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়ার বিষয়ে গত শুক্রবার একটি ফেডারেল আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এদিকে, অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অনাগরিকদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান