
সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় জানিয়ে ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে প্রাণ রক্ষা করা যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে এসব নির্দেশনায়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রচারিত নির্দেশনায় বিস্ফোরণের মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রথম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের আলো বা আগুনের গোলার দিকে সরাসরি তাকানো যাবে না। বিস্ফোরণের মুহূর্তে দ্রুত শক্ত কোনো কিছুর আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে। বিস্ফোরণের অভিঘাতের তরঙ্গ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত নিচু হয়ে থাকতে হবে।
বিস্ফোরণের অভিঘাতের তরঙ্গ থেমে যাওয়ার পরপরই কাছের কোনো ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময় জানালা ও ভবনের বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাইরে অবস্থান করা, ছবি তোলা কিংবা গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
তৃতীয় নির্দেশনায় তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থাকলে শরীরের খোলা অংশ পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে কন্ডিশনারবিহীন সাধারণ শ্যাম্পু।
গোসলের সুযোগ না থাকলে অন্তত মুখ, হাতসহ শরীরের উন্মুক্ত অংশ পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
হামলার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়স্থলের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ সময় খাবার ও পানির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। নির্দেশনায় শুধু বোতলজাত পানি এবং প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হলেই পরিস্থিতি নিরাপদ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
তবে আশ্রয় নেওয়া ভবনে আগুন লাগার বা সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে সরে যেতে হবে।
ইরানের টেলিভিশনে প্রচারিত এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো, সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় ও পরবর্তী সময়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি কমানো।