
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চারটি প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত রেখে সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থগিত রাখা চারটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প। অন্য দুটি প্রকল্প হলো প্রবৃদ্ধি-লোকাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (এলইডি) ইন সিলেক্টেড মিউনিসিপ্যালিটিজ এবং মেট্রো ঢাকা: ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন। প্রকল্পগুলো আরও যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর একনেকের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন এবং অপারেশনাল যানবাহন কেনার প্রকল্প। এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গ্যাসকূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইনোভেশন ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট, বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন এবং দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপন।
এ ছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় বি-টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ এবং জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের কয়েকটি প্রকল্প অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন দিয়েছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের বিষয়ে একনেক বৈঠকে সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন প্রকল্প। এ ছাড়া শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প রয়েছে।