
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নির্বাচনি প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেননি তিনি।
নির্বাচনে কোনো একক অপ্রার্থী হিসেবে রেকর্ড ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার বা ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। এর মধ্যে শুধু টেক্সাসকেন্দ্রিক নির্বাচনি প্রচারণাতেই ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছেন তিনি। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে কেন প্যাক্সটন এবং ওহাইওর গভর্নর পদে বিবেক রামাস্বামীসহ তার সমর্থিত অধিকাংশ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে পলিটিকো।
নির্বাচনের ফলাফল ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সাসে বিশাল পরিসরে ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিজোসার কাছে বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের পরাজয়ের পর এ পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে জনমত ও বিরোধিতা বাড়লেও টেক্সাসকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি সাফল্যের পর রাজ্যটিতে মাস্কের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন মাস্ক। মহাকাশে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ধারণাকে আকর্ষণীয় উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এবার তার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কথিত ‘স্পেস লেজারগুলো’ ঠিকমতো কাজ করেনি।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইলন মাস্কসহ সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নির্বাচনি অর্থায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আইনপ্রণেতাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি গ্রেগ ক্যাসার বলেছেন, জনগণ রিপাবলিকানদের প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তারা এআই বিলিয়নিয়ারদের অর্থের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছিল। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের উচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে নির্বাচনি অনুদান না নিয়ে তাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় ইলন মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।