
প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দলমত, শ্রেণি-পেশা এবং অঞ্চলভেদ ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত ‘শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ককাসের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার।
বৈঠকে ককাসের সদস্য মোরশেদ মিলটন, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, আন্না মিন্জ এবং মাধবী মার্মা এমপি অংশ নেন।
বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা এবং উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংসদীয় উদ্যোগ জোরদারের বিভিন্ন প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় ককাসের এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে অনেক আইন রয়েছে। তবে এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন, বাজেট এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
শিশু অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের কথা উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলমত, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বৈঠকে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু, এতিম, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
ককাসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। শিশু অধিকার-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে। নির্বাহী বিভাগে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সংসদ সদস্যরা বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও বিষয়গুলো সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ককাসের কার্যক্রমকে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। এ সময় তিনি ককাসের সদস্য ও অংশীজনদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণও জানান।
ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের সুফল যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও প্রতিনিধিরা, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও সংস্থার প্রতিনিধি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।