
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়ের ঘটনায় গুরুতর আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৭) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানায়, টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল—গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখের বাম কাঁধে গুলি লাগে। গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), রামুতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ বাহিনীর অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। এ ছাড়া জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় যৌথ আভিযানিক দল।
দেশমাতৃকার সেবায় দায়িত্ব পালনকালে তরুণ এই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাহিনীটি।