
বাংলাদেশ ফুটবল দলে নতুন এক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বনাথ ঘোষকে। দীর্ঘদিন রাইটব্যাক ও সেন্টারব্যাক হিসেবে খেললেও কোচ থমাস ডুলির অধীনে এবার আক্রমণভাগে জায়গা পেয়েছেন এই ফুটবলার। ভুটানের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে তাকে সরাসরি স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়ে চমক দেখান কোচ। এবার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডুলি।
ম্যাচের একাদশ দেখে শুরুতে মনে হয়েছিল, পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পরই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। মিডফিল্ডার শমিত শোমের সামনে এবং দুই উইঙ্গার ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও রাকিব হোসেনের মাঝখানে সেন্টার ফরোয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্বনাথ।
থমাস ডুলির অধীনে বিশ্বনাথের পজিশনে পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সান মারিনোর বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে তাকে খেলানো হয়েছিল রাইট উইঙ্গার হিসেবে। এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি স্ট্রাইকারের ভূমিকায় দেখা গেল তাকে।
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বিশ্বনাথের পারফরম্যান্স ছিল বেশ কার্যকর। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরিতে তার প্রেসিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার দ্রুত মুভমেন্টের কারণে বেশ কয়েকটি আক্রমণের সুযোগও তৈরি হয়। তবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় গোল পাওয়া হয়নি তার। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে এই ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারতেন তিনি।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন বিশ্বনাথ। ২৬ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও ভালো ফিনিশিং করতে পারেননি। এরপর ৩৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আগের মতো কার্যকর ছিলেন না বিশ্বনাথ। ফলে ৬০ মিনিটের দিকে তাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। পরে ৭৩ মিনিটে এই ইব্রাহিমের করা একমাত্র গোলেই ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ।
তবে গোল না পেলেও বিশ্বনাথের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ থমাস ডুলি। তার মতে, বিশ্বনাথের শারীরিক সক্ষমতা, পরিশ্রম এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার দক্ষতা তাকে আক্রমণভাগে খেলানোর অন্যতম কারণ।
ডুলি জানান, সেন্টারব্যাক হিসেবে বিশ্বনাথের অতিরিক্ত আগ্রাসী খেলার কারণে পেনাল্টি বা লাল কার্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। আবার রাইটব্যাক হিসেবে খেলালে বক্সের ভেতরে রক্ষণ সামলানোর দায়িত্বও থাকত। তাই তার শক্তি ও কর্মক্ষমতা কাজে লাগাতে আক্রমণভাগে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন।
কোচের ভাষায়, ‘সান মারিনোতে থাকতেই তাকে বলেছিলাম, সেন্টারব্যাক হিসেবে খেললে তার তীব্রতার কারণে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেওয়া বা লাল কার্ড দেখার ঝুঁকি থাকতে পারে। আমার মনে হয়েছিল, সে রাইটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারে। তবে সেখানেও তাকে বক্সের ভেতরে ডিফেন্ড করতে হতো। সান মারিনোর বিপক্ষে তাকে রাইট-ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়েছিলাম। সে অসাধারণ খেলেছে। গোলরক্ষকের বিপক্ষে দুটি ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ পেয়েছিল, দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করেছিল এবং দুর্দান্ত এনার্জি দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের চাপে রেখেছিল।’
ভুটানের বিপক্ষে বিশ্বনাথের পজিশন নির্ধারণের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘ডান পাশে সাদ দারুণ খেলছে এবং তারিক রক্ষণে ভালো করছে। তাই আমি চেয়েছিলাম, বিশ্বনাথ এমন একটি পজিশনে খেলুক, যেখানে সে দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবে। নাম্বার নাইন হিসেবে আপনাকে এমন জায়গায় যেতে হবে, যেখানে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্বনাথ এ ব্যাপারে মোটেও পিছপা হয় না।’
বিশ্বনাথের কাছ থেকে গোলের প্রত্যাশা থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় কিছুটা হতাশ কোচ। তবে তার সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ডুলি বলেন, সুযোগগুলোতে ভাগ্য সহায় না করলেও দলের জন্য বিশ্বনাথের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।