
ইসরাইলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের চাপে পড়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শেষে সমর্থনের এই হিসাব প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। বিপরীতে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছে।
সমর্থনের হিসাবে আইজেনকোট এগিয়ে থাকলেও এখনই কাউকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দিচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা শেষে আগামী রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন আইজ্যাক হারজগ।
এদিকে দ্রুত সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন আইজেনকোট। তার দাবি, ২০১৫ সালের পর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের মধ্যে তার পক্ষেই সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতা সুপারিশ জানিয়েছেন।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেও আইজেনকোটের সামনে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরে চারটি ইহুদিপ্রধান দলের ৪৮ জন এবং দুটি আরবপ্রধান দলের ১৯ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। এই ছয়টি দলই আইজেনকোটকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু ইহুদিপ্রধান দলগুলোর মধ্যে তিনটি এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়নি।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট নির্বাচনে ৫৩টি আসন পেয়েছে। তবে সাত আসনের ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টি নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেনি। ফলে দলটির সঙ্গে আইজেনকোটের জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যানও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এনেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। দীর্ঘদিন ধরে হারেদি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে আসলেও এবার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এ ধরনের সমঝোতা হলে আইজেনকোট ও লিবারম্যানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থাও হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আইজেনকোটের সমর্থকরা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে এমন সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেট বা ইসরাইলের পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। শপথ গ্রহণের পর পার্লামেন্টে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থনের হিসাবে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকোট। তবে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেয়েও তিনি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাচ্ছেন কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী রোববার পর্যন্ত।