প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 16, 2025 ইং
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে কোনো চুক্তি হয়নি, হতাশ ইউক্রেন

আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে কোনো চুক্তি হয়নি। দীর্ঘ আলোচনার পরও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
বৈঠকের পর ক্লান্ত ও অস্বস্তিকর অবস্থায় ক্যামেরার সামনে হাজির হন ট্রাম্প। অপরদিকে পুতিন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, যিনি আবারও যুদ্ধের “মূল কারণ” প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চলমান প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে কিংবা গোপন তৎপরতায় ব্যাঘাত ঘটালে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিয়েভ ও ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—কোনো তাৎপর্যপূর্ণ সমঝোতা হয়নি। দুই নেতার মধ্যে এমনকি একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও হয়নি, আর বৈঠক শেষে দ্রুত বিমানে চড়ে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন পুতিন।
আলোচনার সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো—যেমন কোন ভূমি দখল রাখতে চান পুতিন কিংবা যুদ্ধবিরতির শর্ত—এখনও অমীমাংসিত। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, “বড় কিছু বিষয় এখনো রয়ে গেছে।” এর অর্থ আলোচনায় অগ্রগতি খুব সীমিত।
তবে পুতিন দুইভাবে লাভবান হয়েছেন। প্রথমত, মার্কিন মাটিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং প্রেসিডেন্টের গাড়ি “দ্য বিস্ট”-এ চড়ার সুযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে নতুন করে বৈধতা দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সময় অর্জন করেছেন তিনি। কারণ, ফ্রন্টলাইনে রুশ সেনাদের জন্য সামনের মাসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সময় কাজে লাগিয়ে মস্কো সামরিক সুবিধা পেতে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী সুরে বলেছেন, শিগগিরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পুতিনের বৈঠক আয়োজন করা হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখন কাজটা আসলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির। তাঁদের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হবে, আর সম্ভবত আমিও থাকব।” যদিও কী কী ইস্যুতে অচলাবস্থা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।
বৈঠককে “সফল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁর ভাষায়, “আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া দারুণ হয়েছে, ১০-এর মধ্যে ১০ দেব।”
সূত্র: সিএনএন
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com