প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 23, 2025 ইং
মহাবিপদে পড়তে যাচ্ছে ইরান

ইরানের দীর্ঘতম নদী কারুন নদী। যত দিন যাচ্ছে এ নদী তার স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। খরা, প্রবাহ হ্রাস, রাসায়নিক দূষণ এবং জলাভূমির ক্ষয়ের কারণে অদূর ভবিষ্যতে নদীর বড় একটি অংশ বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারুন-৩, কারুন-৪ ও গোতভান্দের মতো বাঁধের মাধ্যমে জলবিদ্যুতের মূল উৎস এই নদীটির পানির স্তর তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বাঁধ নির্মাণ নীতিকে অস্থিতিশীল বলে সমালোচনা হয়ে আসছে। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার চেয়ে দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পের কারণে নদীর এই দশা হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
এ নিয়ে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে জলাভূমি বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আলী আরভাহির বক্তব্য তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নদীটি সংকটে পড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো কারুন ও গোতভান্দের মতো বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প, ইসফাহান ও ইয়াজদের মতো প্রদেশে ইন্টার-বেসিন পানি স্থানান্তর এবং খুজেস্তানে আখ ও ধানের মতো পানি-নির্ভর ফসলের চাষ।
কারুন ৩ এবং গোতভান্দ বাঁধ খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত। সেখানে কারুন ৪ চাহারমহল এবং বখতিয়ারিতে অবস্থিত।
আরভাহি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করুণ নদীর প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ঘনমিটারের নিচে নেমে এসেছে। যা একসময় প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ থেকে ৬০০ ঘনমিটার ছিল।
পানি সংকট ও বায়ু দূষণ
খুজেস্তান আখ চাষের একটি প্রধান কেন্দ্র। চলমান পানি সংকট সত্ত্বেও, ৮০,০০০ হেক্টরেরও বেশি আখ চাষের আওতায় রয়েছে। আরভাহি বলেন, খুজেস্তানের আধা-শুষ্ক জলবায়ুতে আখ চাষ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়। কারুন অববাহিকার বৃহত্তম পরিকল্পনামূলক ভুলগুলোর মধ্যে এটি একটি। যা সীমিত পানি সম্পদের উপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com