প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 20, 2025 ইং
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হবে না: জাতিসংঘ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাসমূহ স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার না করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ইরানের জন্য নতুন অর্থনৈতিক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল রোধের প্রস্তাবটি চারটি ভোটের পক্ষে ও নয়টি ভোটের বিপক্ষে পড়ে। ফলে বড় কোনো চুক্তি না হলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
এদিকে, আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ভোটাভুটিতে রাশিয়া, চীন, আজারবাইজান ও আলজেরিয়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিরোধিতা করে। নিরাপত্তা পরিষদের মোট নয়টি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় এবং দুটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির উদ্যোগে গত আগস্ট মাসের শেষদিকে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য তেহরানকে চ্যালেঞ্জ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে এই ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।
ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ২০১৫ সালের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (জেসিপিওএ) ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, ইউরোপীয়রা যা করছে, তা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা জেসিপিওএ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করছে।
ইরান যদি জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে আসে, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান একটি যুক্তিসঙ্গত ও কার্যকর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে এবং দেশটি এনপিটির (পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি) প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের বিরুদ্ধে তার পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, ইরান জেসিপিওএ চুক্তিতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সুরক্ষা নীতি মেনে চলছে না।
আল-জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেইস জানান, নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোট চূড়ান্ত নয়। বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চস্তরের বৈঠকে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তাই ইরান ও তিন ইউরোপীয় দেশের মধ্যে উচ্চস্তরের কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি তৈরি হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com