প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 23, 2025 ইং
শেভ না করলেই সেনাবাহিনী থেকে বাদ!

এক বছরের বেশি সময় ধরে দাঁড়ি না কামানো সদস্যদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সেনাবাহিনীর প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী, সকল সেনা সদস্যকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন শেভড থাকতে হবে বলে নতুন এ নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সরকারি মেমোতে এই নীতিমালার কথা জানানো হয়। তবে শুধুমাত্র ‘পিএফবি’ বা সিউডোফোলিকিউলিটিস বারবেয়ি নামক চর্মরোগে আক্রান্ত সেনা সদস্যরা এই নিয়ম থেকে রেহাই পাবেন। এ রোগে শেভ করলে দাঁড়ি ত্বকের নিচে জট পাকিয়ে গিয়ে ত্বকে ব্যথা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ যে কারও হতে পারে তবে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
নতুন নিয়ম অনুসারে, চিকিৎসাগত কারণ ছাড়া কোনো সেনা সদস্য এক বছর দাঁড়ি রাখলে তাকে সেনাবাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হবে। এমনকি চিকিৎসাগত সমস্যায় আক্রান্ত সদস্যদেরও সেনা চিকিৎসকদের কাছ থেকে সুপারিশ নিতে হবে। এক বছর চিকিৎসার পরও যদি কেউ সুস্থ না হন বা দাঁড়ি না কামান, তাহলে তিনিও বরখাস্ত হবেন।
এতদিন কমান্ডারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই নিয়ম থেকে রেহাই পাওয়া যেত, যা কয়েক দশক ধরে চালু ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে শুধুমাত্র পিএফবি রোগীরাই ব্যতিক্রম পাবেন।
হেগসেথ তার মেমোতে উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীকে যোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত দাঁড়ি কামানোর মানদণ্ড বজায় রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। তবে গোঁফ রাখা, বিশেষ অভিযান বা আলাস্কার মতো প্রতিকূল পরিবেশে কর্মরত সেনাদের ব্যাপারে এই নীতিতে কোনো ব্যতিক্রম বা স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি। এসব ক্ষেত্রে শেভ করা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত নীতিমালা শিথিল থাকলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসব ক্ষেত্রে কঠোরতা বেড়েছে।
এসবের পাশাপাশি, এই সপ্তাহে মার্কিন সেনাবাহিনী চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত হালনাগাদ মানদণ্ড জারি করেছে। নারী সেনা সদস্যদের নখ, চুলের স্টাইল, কানের দুল ও মেকআপের জন্য আরও কঠোর বিধি প্রয়োগ করা হয়েছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বিমানবাহিনী নেইল পলিশের অনুমোদিত রঙের তালিকা ৬০টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৩টিতে সীমিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এই নীতির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক সেনা সদস্যরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com