
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতু কিং ফাহাদ কজওয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুটিতে যান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে যাতায়াত আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি সৌদি আরব ও বাহরাইন-এর মধ্যে একমাত্র সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে থাকে।
সেতুটি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু না করে, তাহলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে ইরান পাল্টা সতর্ক করে বলেছে, তাদের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিশোধ’ নেবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, কিং ফাহাদ কজওয়ে বন্ধ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। নিরাপত্তা ঝুঁকি কমা পর্যন্ত সেতুটি বন্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।