
ধর্ষণ শব্দটি অভিধানভুক্ত হলেও এর অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগী ছাড়া বোঝা প্রায় অসম্ভব। নুয়েন নুয়েন তাঁর ডরমেটরি কির্কল্যান্ড হাউস-এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হন। মাত্র তিন মাস বাকি ছিল স্নাতক সমাপ্তির। ১৮ বছর বয়সে নাসায় ইন্টার্নশিপ করা নুয়েন মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি ছিলেন।
ধর্ষণের পর হাসপাতালে নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে করতে নুয়েন বুঝতে পারেন, নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য শুধু ব্যক্তি নয়, দেশের আইনব্যবস্থাও সমানভাবে দায়ী। ধর্ষণ কিটের খরচ তাঁকেই বহন করতে হয়েছিল, যা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যথাদায়ক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ধর্ষণের মামলা করার সময়সীমা ১৫ বছর হলেও প্রমাণ সংগ্রহের কিট ছয় মাসের মধ্যে ধ্বংস করা হয়। নুয়েন বলেন, “সিস্টেমটা আমার বিরুদ্ধেই সাজানো মনে হচ্ছিল। আর সেটা আমার কাছে ধর্ষণের চেয়েও বড় বিশ্বাসঘাতকতা মনে হয়েছিল।”
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের বিল পেয়ে নুয়েন শারীরিকভাবে অসুস্থ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও হাল ছাড়েননি। ক্ষোভই তাঁকে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজের জন্য নয়, ধর্ষণের শিকার সকল নারীর জন্য লড়ব।”
নুয়েন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের শিকার নারীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ‘রাইজ’ আন্দোলন শুরু করেন। পাশাপাশি ‘যৌন নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের অধিকার সনদ’ বাস্তবায়নে কাজ করেন। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল কিট ধ্বংসের সময়সীমা বাড়ানো এবং ভুক্তভোগীকে খরচভার দিতে না দেওয়া।
নুয়েন ছয় মাসের মধ্যে তার ধর্ষণ কিটের অবস্থান খুঁজে বের করেন। ফরেনসিক ল্যাবগুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি কিটের ধ্বংসের সময়সীমা বৃদ্ধি করান। এই প্রক্রিয়ায় তিনি মানসিক দৃঢ়তা ও বন্ধুদের সমর্থন পান। হার্ভার্ডের আইনদলও বিল প্রণয়নে সহযোগিতা করে।
কংগ্রেসে ধর্ষণ সংক্রান্ত নতুন আইন পাস হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৬ সালে এটিতে ফেডারেল আইনে স্বাক্ষর করেন। রাইজ প্রোগ্রাম এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। গত এক দশকে তারা ৯১টি আইন পাস করাতে সক্ষম হয়েছে।
২০১৯ সালে নুয়েন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিনে বর্ষসেরা নারীদের একজন হন। ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল নুয়েন প্রথম ভিয়েতনামি নারী মহাকাশচারী হিসেবে ব্লু অরিজিন নিউ শেপার্ড-এ মহাকাশে যান। মহাকাশে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল রক্তপাত ও ঋতুচক্রের প্রভাব। নুয়েন বলেন, “ইতিহাসে নারীদের মহাকাশচারী হওয়ার পথে নানা বাধা ছিল, যার মধ্যে ঋতুচক্র বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।”
৩৪ বছর বয়সী নুয়েন এখনও ধর্ষণের শিকার নারীদের পক্ষে লড়ছেন। স্মৃতিকথা ‘সেভিং ফাইভ’-এ তিনি নিজের সংগ্রাম ও অন্যান্য ভুক্তভোগীর গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁর জীবন এই বার্তা দেয়, যে অন্যায় ও বাধা সত্ত্বেও সংগ্রাম কখনো থামে না।