
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া সাধারণ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। শুরু থেকেই কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়। জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হচ্ছে এবং তাঁর সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি তাতি হাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং প্রশাসনের কিছু অংশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জামায়াত প্রার্থীর এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি রূপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের বিপরীতে এখানে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের প্রথম আড়াই ঘণ্টায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।