
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক প্রটোকল অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিঙ্ক (ইউটিএল) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে “ইয়্যুথ এন্টারপ্রেনারশিপ এন্ড স্টার্ট ফর স্টুডেন্টস” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়। এতে শাবিপ্রবি ও সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাব সহযোগিতা করে। ইউটিএল-এর অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের মূল ব্যানার ও উদ্বোধনী সূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নাম উল্লেখ থাকলেও ট্রেজারারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা প্রশাসনিক প্রটোকল লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিঙ্ক (ইউটিএল) মনে করে, এটি কেবল একটি সাধারণ ভুল নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও কাঠামোগত প্রটোকলের ব্যত্যয়। সংগঠনটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রশাসনিক পদ হলো উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার। যেকোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, ব্যানার বা আমন্ত্রণপত্রে এই তিনটি পদের যথাযথ উল্লেখ থাকা আবশ্যক। তাদের মতে, এ ধরনের ব্যত্যয় শিষ্টাচারের অভাবের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করে।
ইউটিএল আরও দাবি করেছে, এর আগেও গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতেও একই ধরনের প্রটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল। সংগঠনটির মতে, বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতার ইঙ্গিত বহন করে।
এ ঘটনায় ইউটিএল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে সব ধরনের অনুষ্ঠানে যথাযথ প্রশাসনিক প্রটোকল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো আয়োজন ছিল না। তার ভাষায়, এসএমই ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও জানান, এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল না। এই ঘটনার দায় মূলত আয়োজক পক্ষের ওপর বর্তায় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সব মিলিয়ে শাবিপ্রবির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রটোকল, সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউটিএল’র উদ্বেগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাখ্যার পর বিষয়টি এখন শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।