
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইসলামাবাদে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোহরে খারাজমি জানিয়েছেন, এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়াটাই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, আগে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে ছিল, এখন সেখানে তারা আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খারাজমি বলেন, মার্চের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানালেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান তার শর্তগুলোর ব্যাপারে অনড় রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি পূরণ না হলে কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। তবে এই দফায় সব শর্ত পূরণ না হলেও পরবর্তী দফাগুলোতে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের দর কষাকষির মূল ভিত্তি এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি সহজে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রণালিকে শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে এবং এটি যুদ্ধজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার একটি উপায় হিসেবেও বিবেচনা করছে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তাদের স্বাগত জানান।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইরানের শর্তে অনড় অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত অবস্থান এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনা কতটা সফল হয় এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব কীভাবে পড়ে।