
ইসলামাবাদ-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, স্টারমার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকেই বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা প্রশমনে ব্যর্থ হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি ওমান-এর সুলতানের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঐতিহাসিকভাবে ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং সব পক্ষের উচিত উস্কানি এড়িয়ে চলা।
এদিকে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়াকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আস্থা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছেন। এই বিপরীত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে লেবানন-এর দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকায় মাঠপর্যায়ে কোনো শান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন শহরে বোমাবর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংকট নিরসনে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা জরুরি। তবে বাস্তবতা হলো, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা না গেলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না।
সব মিলিয়ে, কিয়ার স্টারমার-এর সমাধানের আহ্বান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।