
যুক্তরাজ্যের রাজধানী London-এ ফিলিস্তিনপন্থী একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে ২০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভটি নিষিদ্ধ সংগঠন Palestine Action-এর সমর্থনে আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি শনিবার ট্রাফালগার স্কয়ারে ঘটে, যা শহরের অন্যতম প্রধান পাবলিক সমাবেশস্থল।
বিক্ষোভ চলাকালে Trafalgar Square-এ হাজারো মানুষ জড়ো হন। তারা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঠিক সেই সময় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং একের পর এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করতে থাকে। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠন Palestine Action-এর সরাসরি সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রচারণা চালানো হচ্ছিল, যা যুক্তরাজ্যের আইনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
আইন অনুযায়ী, এই সংগঠনের সদস্যপদ বা প্রকাশ্য সমর্থন দিলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
গত বছর সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরে লন্ডন হাইকোর্ট মত দেয় যে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে, ফলে বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে আবারও অভিযান শুরু করে এবং সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম জাতীয় নিরাপত্তা—এই দুই ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে এত বড় গ্রেপ্তার উদ্বেগজনক।
সব মিলিয়ে লন্ডনের এই ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।