
উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখী শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর ও বেগম রোকেয়া হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।
এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং নগরবাসী। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই চারুকলা এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনেকেই সাদা-লাল রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিয়ে উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
শোভাযাত্রার শুরুতে মহানগর পুলিশের ঘোড়সওয়ার দল ছিল, তাদের পেছনে জাতীয় পতাকা বহন করে শিক্ষার্থীদের একটি দল অংশ নেয়। এরপর মূল ব্যানারসহ শিক্ষক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বড় বড় মোটিফ—মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ পটচিত্র শোভাযাত্রায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
এবারের শোভাযাত্রায় দেশের ১০টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যা আয়োজনটিকে বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং সম্প্রীতির বার্তা বিভিন্ন শিল্পকর্মের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শোভাযাত্রাকে ঘিরে চারুকলা এলাকা ও আশপাশের সড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা আবারও বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।