
রাজধানীর রমনার বটমূলে সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়েছে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টায় শুরু হয় এই প্রভাতী আয়োজন, যা বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত।
ছায়ানটের এবারের বর্ষবরণের মূল বার্তা ছিল— “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”, যেখানে বাঙালির জয়, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে তুলে ধরা হয়। ৫৯তম এই আয়োজন সাজানো হয়েছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, মানবিক ও দেশপ্রেমের গান এবং লোকজ সুরের সমন্বয়ে। এর মাধ্যমে বিগত বছরের প্রতিকূলতা ও অস্থিরতা দূর করে নতুন বছরে আরও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছায়ানটের পক্ষ থেকে বলা হয়, আজন্ম বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারে নিয়োজিত এই সংগঠনটি নির্বিঘ্নে সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। এই আহ্বান সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
নতুন বছরকে বরণ করতে রমনার বটমূলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করে ছায়ানট দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ আয়োজন করে আসছে। সুরের মূর্ছনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ভোর থেকেই উপস্থিত ছিলেন নানা বয়সী দর্শক ও সংস্কৃতি অনুরাগীরা।
ভোর সোয়া ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় “জাগো আলোক-লগনে” গান পরিবেশনার মাধ্যমে, যা বর্ষবরণের প্রভাতী আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং লালন সাঁইয়ের গান। এছাড়া দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গানও পরিবেশনায় স্থান পায়। লোকগানের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ করে তোলে।
সব মিলিয়ে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নববর্ষ উদযাপনের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে আবারও প্রমাণ করেছে তার অবস্থান।