বিশ্ব সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ইগল’ (Dark Eagle) এখন মোতায়েনের দ্বারপ্রান্তে। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় সফলতা এবং Rocket Lab-এর সঙ্গে নতুন চুক্তির পর প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর গতি। এটি শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে, যা একে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম অস্ত্রে পরিণত করেছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু গতি নয়, কৌশলগত দিক থেকেও ‘ডার্ক ইগল’ অত্যন্ত উন্নত। প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট পথে চললেও এই হাইপারসনিক সিস্টেম বায়ুমণ্ডলের ভেতরেই দিক পরিবর্তন করতে পারে। এতে করে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটিকে শনাক্ত বা প্রতিহত করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
Pentagon জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটারের বেশি। কৌশলগতভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দূরবর্তী ঘাঁটি থেকে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
‘ডার্ক ইগল’ ব্যাটারির কাঠামোতেও রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। একটি ইউনিটে চারটি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার থাকবে, যেখান থেকে মোট আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো আরও সহজ হবে।
নতুন ১৯০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরে আরও ২০টি পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের গতি, নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভুলতা আরও উন্নত করা হবে। ইতোমধ্যে ‘হেইস্ট’ প্রোগ্রামের অধীনে একাধিক সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ‘ডার্ক ইগল’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।