
ঝড়বৃষ্টির কারণে সাময়িক স্বস্তির পর আবারও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে Bangladesh। প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা, ফলে জনজীবন ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। গরমের তীব্রতায় হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং, যা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন Google Weather, AccuWeather, The Weather Channel এবং Ventusky জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল থেকে দেশের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়বে। বিশেষ করে রাজধানী Dhaka-তে ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা বাস্তবের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি লাগতে পারে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুর, রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে গেছে। অতিরিক্ত গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে Heatstroke, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর ও ত্বকের সমস্যার প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে বয়স্ক ও শ্রমজীবীদের মধ্যে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলেও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় একই সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং জনজীবনে নতুন করে কষ্ট বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রামাঞ্চলে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, আর ঢাকাতেও বিদ্যুতের আসা-যাওয়া বাড়ছে।
গত বছর ২০২৪ সালে টানা ৩৬ দিনের তাপপ্রবাহে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। সে সময় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে শুধু ২৮ এপ্রিল একদিনেই ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। চলতি বছরও ইতোমধ্যে গরমে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে Bogura-তে, যেখানে হিটস্ট্রোকে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি বাড়ছে। NOAA-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র গরম ও আকস্মিক ঝড়ের প্রবণতা বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, তাপপ্রবাহ, লোডশেডিং ও পানির সংকট একত্রে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে, যা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।