ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অতিথি আপ্যায়নের বরকত ও গুরুত্ব

ফাইল ছবি

ইসলামে অতিথি আপ্যায়নকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি শুধু ভদ্রতা বা সামাজিক রীতির অংশ নয়, বরং ঈমানের পরিচয় এবং সওয়াবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই অতিথিকে হাসিমুখে গ্রহণ করা, আন্তরিকতার সঙ্গে আপ্যায়ন করা, সাধ্যমতো ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো একজন মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

পবিত্র ইসলাম ধর্মে অতিথিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো রহমত হিসেবে দেখা হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে। এই শিক্ষা মুসলমানদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং মানবিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, যে ঘরে অতিথির আগমন ঘটে, সেখানে আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয়। অতিথি তার নিজস্ব রিজিক নিয়ে আসে এবং গৃহস্থের জন্য কল্যাণের কারণ হয়। তাই অতিথির আগমনকে বোঝা বা বিরক্তির কারণ হিসেবে নয়, বরং সৌভাগ্য ও বরকতের উপলক্ষ হিসেবে দেখা উচিত।

পবিত্র কোরআনে মুমিনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে অন্যকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। অতিথি আপ্যায়নের মধ্যেও এই মহান মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে।

নবী করিম (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবন ছিল অতিথিপরায়ণতার উজ্জ্বল উদাহরণ। তারা অতিথিকে সম্মান করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন এবং নিজেদের সামান্য খাবারও অতিথির সঙ্গে ভাগ করে খেতে আনন্দবোধ করতেন। তাদের কাছে অতিথির উপস্থিতি ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহের নিদর্শন।

তবে ইসলাম যেমন অতিথি আপ্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি এ বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার কথাও বলেছে। হাদিসে অতিথির পূর্ণাঙ্গ হক এক দিন ও এক রাত এবং সাধারণ আতিথেয়তার সময়সীমা তিন দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি হলে তা সদকার মর্যাদা পায়। অর্থাৎ ইসলাম অতিরিক্ত কষ্ট বা লোক দেখানো আয়োজনকে উৎসাহিত করে না।

বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রে অতিথি আপ্যায়ন অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক ও ব্যয়বহুল আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নানা ধরনের খাবার, বাহারি পরিবেশন এবং সামাজিক প্রতিযোগিতার কারণে অনেক পরিবার অতিথি আপ্যায়নকে অতিরিক্ত চাপ হিসেবে অনুভব করে। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো আন্তরিকতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন করা, বিলাসিতা নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতিথি আপ্যায়নের সংস্কৃতি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। আত্মীয়তার সম্পর্ক গভীর হয়, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরি হয়। একই সঙ্গে এটি মানুষের চরিত্রে উদারতা ও মানবিকতার বিকাশ ঘটায়।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অতিথি আপ্যায়নের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য বরকত ও কল্যাণ। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং গুনাহ মাফেরও উসিলা হতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে মেহমানদারির এই সুন্দর ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরা সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চীন যে বার্তা দিলেন

1

চট্টগ্রামে সরকারি জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৮

2

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস, আসতে পারে নতুন মুখ

3

অর্ডার করেছিলেন আইফোন, পার্সেলে মিলল তেল

4

আর্জেন্টিনাকে বরণে লাখো সমর্থকের ঢল, হারের পরেও বীরের সম্মান

5

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়

6

টিকটক দেখেই ভ্রমণের গন্তব্য ঠিক করছে জেন-জিরা

7

স্পেসএক্সের আইপিওতে শেয়ার মূল্য ১৩৫ ডলার

8

মেসির ব্যর্থতার গল্প থেকে বিশ্বজয়ের ইতিহাস

9

চোটে বিশ্বকাপে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় গ্যানাব্রি

10

জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘ হতে পারে বাংলাদেশে

11

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন সঞ্জয়, কে তিনি?

12

১০ জনের দল নিয়ে বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র

13

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত ইউরোপীয় ইউনিয়

14

আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিবাহবিচ্ছেদ

15

এভারেস্টে নিজেদের রেকর্ড ভাঙলেন ২ নেপালি পর্বতারোহী

16

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্র

17

মৃত্যুদণ্ডে পুরোনো পদ্ধতি ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্র

18

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন

19

ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নে সাংবাদিককে পাল্টা জবাব রোনালদোর

20