অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘অ্যাসিডিটি’ ভেবে ভুল নয়, হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো চিনুন

ছবি: সংগৃহীত



বুকে ব্যথা হলেই হার্ট অ্যাটাক—এমন ধারণা অনেকেরই। তবে বাস্তবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সব সময় তীব্র বুকব্যথা দিয়ে শুরু হয় না।

অনেক সময় অ্যাসিডিটি, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ সমস্যার আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে হৃদ্‌যন্ত্রের এই জরুরি সংকেত।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভারতের মেডান্টা হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. নিশান্ত ত্যাগী হার্ট অ্যাটাকের এমন কিছু সতর্কসংকেত তুলে ধরেছেন, যেগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।

সব সময় তীব্র বুকব্যথা নয়

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ বুকের অস্বস্তি। তবে এই অস্বস্তি সব সময় তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে।

বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরা বা টান ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে। কয়েক মিনিট থাকার পর কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতেও পারে।

ডা. ত্যাগীর মতে, ব্যথা অসহ্য হওয়ার অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে অন্য কোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে

হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশেও অস্বস্তি বা ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমিভাব বা বুকের অস্বস্তির সঙ্গে চোয়াল কিংবা পিঠে ব্যথা হলে সেটিকে শুধু পেশির সমস্যা বা বদহজম বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

 
শ্বাসকষ্টও হতে পারে বড় সংকেত

হঠাৎ অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। সামান্য পরিশ্রমেই অতিরিক্ত হাঁপিয়ে যাওয়া, পুরোপুরি শ্বাস নিতে না পারা কিংবা বিশ্রামের সময়ও শ্বাসকষ্ট হওয়া—এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

অনেকেই বুক জ্বালা বা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি হলে সেটিকে অ্যাসিডিটি ভেবে অ্যান্টাসিড খান। কিন্তু নতুন বা অস্বাভাবিক ধরনের বুক জ্বালা, ভারী লাগা বা অস্বস্তি শুধু অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

এর সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, মাথা ঘোরা কিংবা শরীরের অন্য অংশে অস্বস্তি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে বমিভাব, বমি, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা পিঠের নিচের দিকে চাপের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

কী করবেন?

হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে উপসর্গ কমে যাওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে আরামদায়ক অবস্থায় বসতে বা শুয়ে থাকতে হবে। সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে যাওয়া উচিত; নিজে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

ডা. ত্যাগীর মতে, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসপিরিন উপকারী হতে পারে। তবে অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকলে তা নেওয়া উচিত নয়। তাই এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসাকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত? কী বলছে গবেষণা

1

২০২৫ সালে আইপিডিসি’র মুনাফা বেড়েছে ২৫.৩৯ শতাংশ

2

বিশ্বকাপে অনিশ্চিত এদের মিলিতাও

3

চাঁদ দেখার যে অভিজ্ঞতা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

4

গোসলে নেমে তলিয়ে গেলেন দাদা, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল নাতি-নাত

5

মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন নেইমার

6

হরমুজ দেখিয়ে দিল মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা

7

আমরা ব্রাজিলকে গোল উপহার দিয়েছি: স্কটল্যান্ড কোচ

8

আওয়ামী লীগ শুধু বিতাড়িত নয়, দেউলিয়াও: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

9

সমর্থকদের যাতায়াত খরচ দিচ্ছেন জার্মান ফুটবলাররা

10

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

11

আহমাদিনেজাদকে ঘিরে ইরান যুদ্ধের পেছনে গোপন পরিকল্পনা

12

নোয়াখালীতে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

13

মৌসুম শেষে বার্সা ছাড়তে পারেন ছয় তারকা

14

ভায়াগ্রা ব্যবহারের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কোচ

15

কেন্টাকির নির্বাচনে ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয়

16

এভারেস্টে নিজেদের রেকর্ড ভাঙলেন ২ নেপালি পর্বতারোহী

17

পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দেবে ইউনেস্কো

18

সিএনএন’র প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন

19

মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে মোদির প্রতিশ্রুতি

20