ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধের খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও লিখিত অনুমোদন চেয়েছেন সেনাপ্রধান জামির। তবে সম্ভাব্য অভিযানের প্রকৃতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। <Cite refs={["turn552479search0","turn552479search4"]}/>
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে দ্রুত নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশ বাস্তবায়নের আগে জামির আরও বিস্তারিত আলোচনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাক্ষরযুক্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চেয়েছেন। সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশের উদ্বেগ, নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত অভিযানের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটি সরাসরি ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। <Cite refs={["turn552479search3","turn552479search4"]}/>
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের পর একই রাতে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়নি।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান ও তার মিত্ররা ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সূত্রগুলোও নির্বাচনি সুবিধার জন্য ইরান ইস্যু ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধের বিষয়টি এখনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে। <Cite refs={["turn552479search1","turn552479search2","turn552479search10"]}/>
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করতে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করেছে।
তবে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আলোচিত গোপন সামরিক পদক্ষেপটি সরকার পরিবর্তনের ওই নির্দেশনার অংশ কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নেতানিয়াহু ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে দেশটির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।
নির্বাচনের আগে রোববার তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন তিনি।
ছবিটি প্রকাশের পর বিরোধী রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়েন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ, এমন ছবি নির্বাচনের আগে মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তবে ছবিটি বাস্তব কোনো বিস্ফোরণের দৃশ্য নয়; এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি চিত্র।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে, তার সব বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি। <Cite refs={["turn552479search5","turn552479search12"]}/>
ইসরায়েলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর। নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে মতবিরোধের খবর দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি।
মন্তব্য করুন