মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। খবর রয়টার্সের।
‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতাভুক্ত তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি গোষ্ঠীর হামলা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংকট প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোই এ আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
গত আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে বর্তমান বৈঠকের লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
এদিকে, রোববার সৌদি আরবের আকাশে আরও এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হুথি গোষ্ঠীর হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির কারণে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের বৈঠককে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার জবাব আরও কঠোর হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। তবে আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন