পাক-আফগান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে ইরান। দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-এর সম্পর্ক যখন চরম সংকটে, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তেহরান কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে বিরোধ নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত তার দেশ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সীমান্তে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা ও পাল্টা অভিযানে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। উত্তেজনা এতটাই বেড়েছে যে সীমান্ত পেরিয়ে বিমান হামলা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে।
এই অবস্থায় পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
একদিকে যখন সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও চলছে। এর আগে চীন উরুমকিতে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আয়োজন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
তবে পাকিস্তান এখন আর শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়; তারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়।
এদিকে চীনও উচ্চপর্যায়ের সংলাপের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। আর ইরানের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে চলতে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর নজর রয়েছে।
মন্তব্য করুন