ইতালিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘটিত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন ফকির ও নয়ন ফকিরের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও আর্থিক দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী ঘটনায় রূপ নেয়। তবে এই হত্যার পেছনে হুমায়ুনের দুই স্ত্রীর প্ররোচনা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন এবং ২০২৩ সালে ছোট ভাই নয়নকে সেখানে নিয়ে যান। বিদেশে যাওয়ার খরচ নয়ন ধীরে ধীরে পরিশোধ করছিলেন। এরই মধ্যে হুমায়ুন গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলে পরিবারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে নয়ন পরিবারের অধিকাংশ ব্যয় বহন করতেন এবং সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কেনেন, যা নিয়ে ঈর্ষা তৈরি হয় বলে দাবি স্বজনদের।
অভিযোগ রয়েছে, হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা নিয়মিতভাবে নয়নের আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করে হুমায়ুনকে উসকানি দিতেন। এমনকি হত্যার দিন হুমায়ুন তাঁর প্রথম স্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি সেদিন নয়নকে হত্যা করবেন। এতে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা জোরালো হচ্ছে। যদিও দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা আর্থিক বিরোধের কথা স্বীকার করলেও হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে নয়নের মৃত্যুর শোকের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুত্রবধূ আমেনা আফরিন শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি ঘর থেকে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের দাবি করেন। এতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের মা বড় ছেলে হুমায়ুনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই স্ত্রীর চাপ ও প্ররোচনার কারণেই তাঁর ছোট ছেলে প্রাণ হারিয়েছে। উল্লেখ্য, ইতালির লেইজ শহরে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নয়ন নিহত হন। ঘটনার পর হুমায়ুন ভিডিও কলে স্বজনদের কাছে লাশ দেখিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন। বর্তমানে তিনি ইতালির পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলার তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন