একটি সুরক্ষিত আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে চিকিৎসকের মরদেহ ও তার আহত সন্তানকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনাস্থলে স্বামী মৃত অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্ত্রীকে বিছানায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
পুলিশ জানায়, নিহত চিকিৎসকের নাম ডা. কিরণ হোনান্নাভার (৪৫)। তিনি পেশায় অ্যানেস্থেটিস্ট ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ফ্ল্যাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় জোর করে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, ডা. কিরণ মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। অন্য একটি কক্ষে তার আট বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে ছেলেটিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনাটি ঘটে ধারওয়াড়ের রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টসে, যা কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয় রোড এলাকায় অবস্থিত। ভবনটি নিরাপত্তাবেষ্টিত হওয়ায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে বাইরের কেউ প্রবেশ করেনি।
নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হুবলি-ধারওয়াড় পুলিশের কমিশনার এন শশিকুমার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের যোগ থাকতে পারে। তবে হত্যার সঠিক কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার পর ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি ভিডিওতে ডা. কিরণকে একটি কক্ষে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি কক্ষে আহত ছেলেটিকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে ডা. প্রিয়াঙ্কাকে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
স্বজনরা পুলিশকে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই তারা ডা. কিরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ কমিশনার জানান, ফোন ধরেছিলেন ডা. প্রিয়াঙ্কা। তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। প্রথমে বলেন, স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন; পরে বলেন, তিনি বাইরে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা ফ্ল্যাটে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখে পুলিশকে খবর দেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডা. প্রিয়াঙ্কাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে এবং তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিহতের আট বছর বয়সী সন্তান অটিজমে আক্রান্ত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তবে বিষয়টি যাচাই করছে পুলিশ।