স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, মানুষ চাইলে তার স্ত্রী পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশীকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই বাস্তবতাকে মেনেই দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন কেমন হবে, তা সরকার এককভাবে ঠিক করে না। বরং সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান ও পররাষ্ট্রনীতি সংশোধন করে তা নির্ধারণ করা হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের প্রধান নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার কাজ করছে এবং দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের উদ্বেগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার গত চার-পাঁচ মাসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, অন রেকর্ড একজনকেও অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ (পুশ-ইন) করতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর। এমনকি আক্রান্ত হলে বিজিবি পাল্টা গুলি ছুড়ছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, জাতীয় স্বার্থ রক্ষাতেও সেই একই ঐক্য বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমাদের মধ্যে যত তর্ক-বিতর্কই থাকুক না কেন, তা এই সংসদ ভবনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনোই কোনো ছাড় দেব না। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’