ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অসম্পন্ন কাজেই কোটি টাকার বিল

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের অটোমেশন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দেখা গেছে, কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করেই বিপুল অঙ্কের বিল উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

২০১৯ সালের ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় আইটি প্রতিষ্ঠান ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড’ (সিএনএস)-এর সঙ্গে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ। তবে অভিযোগ উঠেছে, চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সব কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি।

নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পের বিভিন্ন মডিউলের কার্যক্রম মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদা কমিটি গঠন করতে হয়।

এদিকে, চুক্তি অনুযায়ী ৬১ জন জনবল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র ৪১ জন। কম জনবল দিয়ে কাজ পরিচালনা করলেও পূর্ণাঙ্গ বিল দাবি করা হয়, যা নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরে একটি পর্যালোচনা কমিটি ৪১ জনের ভিত্তিতে সীমিত সময়ের জন্য কম পরিমাণ বিল পরিশোধের সুপারিশ করে।

আরও জানা যায়, মেইনটেন্যান্স খাতে তিন বছরে ১১ কোটির বেশি টাকা দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার ঘটনাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই মাস সিস্টেম কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

প্রকল্পের আওতায় বিদেশ সফরের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কথা থাকলেও তা বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবুও ওই খাতে ব্যয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পরে কর্তন করা হয়।

এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার একটি বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। কাজ অসম্পূর্ণ থাকা এবং সেবা বন্ধ থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এত বড় অঙ্কের বিল অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পের সময়সীমা নিয়েও অসংগতি পাওয়া গেছে। কোথাও সময় বাড়ানো হয়েছে, কোথাও কাজ শেষ না হলেও নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাবেন। যদিও পরবর্তীতে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সিএনএস কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, চুক্তির পাঁচটি ধাপই সম্পন্ন হয়েছে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী বিল গ্রহণ করা হয়েছে। জনবল কম থাকার বিষয়টি তারা বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে।

তাদের মতে, কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও তা কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় চালু করা হয়। বিদেশ সফরের ব্যয় সম্পর্কেও তারা জানিয়েছে, সফর না হওয়ায় সেই খরচ বিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের অটোমেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুতিন ও জেলেনস্কি বৈঠক দু’সপ্তাহের মধ্যে: জার্মান চ্যান্সেলর

1

নিলামে আরও ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

2

আরব আমিরাত ও জাহাজে হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বললেন ম্যাক্রোঁ

3

টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

4

দেশে আর অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড হবে না: জয়নুল আবদিন ফারুক

5

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ বিমান কেনার কথা নিশ্চিত করল চীন

6

বিশ্ব কূটনীতির নতুন কেন্দ্র বেইজিং

7

কত বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন জানালেন ফজলুর রহমান

8

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক মেরে খাওয়ার ঘটনা শুনে অবাক তা

9

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

10

আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন পাকিস্তান

11

স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

12

মার্কিন উদ্যোগে লেবানন–ইসরাইল বৈঠকের আহ্বান

13

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে ২৬ জাহাজে হামলা

14

হজ পালনে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু

15

দেশের পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত

16

মেসিকে ছাড়াই আমার একাদশ নিখুঁত : পিয়ার্স মরগান

17

মাসে লাখ টাকা বেতন পাবেন অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নরা

18

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে : ইরানের পররাষ্ট

19

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার আহ্বান মাখোঁর

20