ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চরম আবহাওয়া বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে

সংগৃহীত

তীব্র গরম, উচ্চ আর্দ্রতা এবং বজ্রঝড়—উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মকালীন এমন আবহাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েক সপ্তাহ পর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে এখন থেকেই আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে। এর মধ্যে অনেক শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে এবং আর্দ্রতা পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। ফলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও দর্শকদের স্বস্তি—দুটোই প্রভাবিত হতে পারে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঞ্চলে দাবানলের কারণে বায়ুদূষণের ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে নিয়মিত বজ্রঝড় আউটডোর ম্যাচে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামের ৮ থেকে ১০ মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে অন্তত ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়। এরপর আবার বজ্রপাত হলে বিরতি আরও দীর্ঘায়িত হয়।

গত বছরের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে এমন আবহাওয়ার কারণে একাধিক ম্যাচে দেরি হয়েছিল, যা নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়। অনেক কোচ ও বিশ্লেষক তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন বড় টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরের উপযোগিতা নিয়ে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রপাতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার অধিকাংশই ঘটেছে বাইরে অবস্থান করার সময়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এমন ঝড় ও বজ্রপাত আরও অনিয়মিত ও ঘন ঘন হতে পারে।

স্টেডিয়াম বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ভেন্যুগুলোতে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা থাকলেও আশপাশে ঝুঁকি থাকলে খেলা বন্ধ রাখতে হয়। এ কারণে অনেক সময় ম্যাচ শিডিউলেও পরিবর্তন আসতে পারে।

ফিফা ইতোমধ্যে গরম ও আবহাওয়ার প্রভাব কমাতে আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভ্যাঙ্কুভারের মতো শহরের কিছু স্টেডিয়ামে ছাদযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করেছে। তবে বেশিরভাগ ম্যাচই হবে খোলা আকাশের নিচে।

তীব্র গরম মোকাবিলায় ফিফা প্রতিটি ম্যাচের অর্ধে ‘কুলিং ব্রেক’ বাধ্যতামূলক করেছে। তবে নরওয়ের একদল ফুটবলার ফিফার কাছে আবেদন করে জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং এর জন্য আরও শক্তিশালী ‘হিট-স্ট্রেস’ নীতিমালা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতির অনিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাশিয়ায় কয়লা খনি ধসে ৮ শ্রমিক নিহত

1

মাতাল অবস্থায় সিংহের খাঁচায় যুবক, তারপর যা ঘটল

2

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

3

মা হতে চলেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অনামিকা ঐশী

4

আজ তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

5

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি ঘিরে নতুন মার্কিন নিষেধ

6

২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে প্রায় ৩ কোটি টাকার টোল আদায়

7

রাশিয়ায় বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসার

8

হজযাত্রীদের সেবায় নিবেদিত সৌদি যমজ বোন

9

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বন কেটে ভাগাড় নির্মাণ

10

দেশে হামে আক্রান্ত ছাড়াল ৫০ হাজার

11

শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু

12

বিয়েটা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত : অপু বিশ্বাস

13

এনসিপির জাতীয় নারী শক্তির ৫৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

14

মাহফুজ আলম–এমপি সেলিমের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিতর্ক

15

হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর

16

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭০ বাংলাদেশি

17

নাটোরে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

18

নির্বাচনী ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু

19

অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

20