বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটি পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে ‘বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা, মাজারের খাদেম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাজারের প্রধান খাদেম ও বিএনপি নেতা ফকির তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাজার ও দিঘির দেখভাল করে আসছে। কিন্তু স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই প্রশাসন পুলিশি সহায়তায় দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নিয়েছে। তাঁর দাবি, কুমিরটি শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং বাগেরহাটের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও জানান, অতীতেও চিকিৎসার কথা বলে মাজার দিঘি থেকে দুটি কুমির সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো আর ফেরত আনা হয়নি। তাই এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কুমিরটি দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য, খাদেম, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা কুমিরটিকে বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ফেরত আনার আহ্বান জানান।
ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হজরত খানজাহান আলী (রহ.) সুপেয় পানির জন্য এই দিঘি খনন করেছিলেন। স্থানীয় লোককথায় প্রচলিত রয়েছে, পানির নিরাপত্তার জন্য তিনি সেখানে কুমির পালন করতেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে মাজার দিঘিতে কুমির সংরক্ষিত হয়ে আসছে।
তবে সম্প্রতি একাধিক নিরাপত্তা উদ্বেগ সামনে আসে। মাজার দিঘির একমাত্র নারী কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর ও এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।
বর্তমানে কুমিরটি ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের একাংশ কুমিরটিকে পুনরায় মাজার দিঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানালেও নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশ্নে প্রশাসনের অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মন্তব্য করুন