ভূমিকম্প মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নিদর্শন, যা মানুষের দুর্বলতা ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। ইসলামে দুর্যোগের সময় ধৈর্য ধারণ ও দোয়া করার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিস অনুযায়ী, একটি দোয়া তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে আকাশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন বিপদ থেকে হেফাজত করেন। দোয়াটির উচ্চারণ হলো: “বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামা’ই ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম”।
ভূমিকম্পের সময় অনেকে আরও একটি দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দেন: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা শারিকা লাহু, ফাবি আইয়্যি আলা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান”। এটি আল্লাহর স্মরণ ও ভয়-ভক্তি প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া বিপদের সময় আরেকটি দোয়া পড়া যায়, যা কোরআনের সুরা আল-আরাফের ১৫৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে: “আন্তা ওয়ালিয়্যুনা ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আন্তা খাইরুল গাফিরীন”, যার অর্থ—হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রক্ষক, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন।
সঙ্কট ও বিপদের সময় দোয়া ইউনুসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এটি হযরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া, যা তিনি বিপদে পড়ে আল্লাহর কাছে বারবার পাঠ করেছিলেন। দোয়াটি হলো: “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমীন”—অর্থাৎ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র; আমি অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
সব মিলিয়ে, ভূমিকম্পসহ যেকোনো বিপদের সময় আল্লাহর স্মরণ, ধৈর্য ও দোয়া মানুষকে মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি দিতে সহায়তা করে।
মন্তব্য করুন