রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলার রায়সহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উচ্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার রায় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। এখন উচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার-কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, নির্ধারিত অর্থ স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করলে আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।
মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের শুরুতেই স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরবর্তী সময়ে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে মামলার দুই আসামিই কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের আইনগত বৈধতা পর্যালোচনা করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় ডেথ রেফারেন্স প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
মন্তব্য করুন