ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিয়ে না করলে কি জান্নাত পাওয়া যাবে না

ফাইল ছবি

বিয়ে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং সামাজিক জীবনের অন্যতম ভিত্তি। তবে সমাজে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে—বিয়ে না করলে কি জান্নাত পাওয়া যাবে না? বা কেউ আজীবন অবিবাহিত থাকলে কি সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে জান্নাত লাভের মূল শর্ত হলো বিশুদ্ধ ঈমান, আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং নেক আমল। কোনো ব্যক্তির বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়া জান্নাত প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে নির্ধারিত নয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে” (সুরা নিসা: ১২৪)। এই আয়াতে জান্নাতের ভিত্তি হিসেবে ঈমান ও আমলের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং একে চরিত্র রক্ষার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “বান্দা যখন বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে” (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪০৩৫)। এর অর্থ হলো বিয়ে মানুষকে অনেক পাপ থেকে রক্ষা করে এবং দ্বীন পালনে সহায়ক হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, কেউ বিয়ে না করলে সে দ্বীনের পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে না।

ইসলামি শরিয়তে বিয়ের বিধান ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। যদি কারও বিয়ে না করলে পাপে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা ফরজ। সাধারণভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আবার যদি কারও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে পরিস্থিতিভেদে তা মাকরুহ বা এমনকি হারামও হতে পারে।

অনেকে একটি হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করে বলেন, বিয়ে না করলে কেউ রাসুল (সা.)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। কিন্তু মুহাদ্দিসদের মতে, এখানে উদ্দেশ্য হলো বিয়েকে অস্বীকার করা বা অবজ্ঞা করা, কোনো বৈধ কারণবশত বিয়ে না করা নয়।

ইসলামের ইতিহাসে এমন বহু নেককার ব্যক্তি রয়েছেন যারা আজীবন অবিবাহিত থেকেছেন, যেমন কিছু বড় আলেম ও হাদিসবিশারদ। তারা দ্বীনি খেদমতে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বিয়ে না করলেও আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব।

সুতরাং বিয়ে না করলে জান্নাত পাওয়া যাবে না—এটি ইসলামের সঠিক শিক্ষা নয়। তবে সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করা উত্তম এবং নৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিয়ে করেননি, তারা যদি ঈমান ও নেক আমলে অটল থাকেন, তবে আল্লাহর রহমতে তাদের জন্য জান্নাতের দরজা অবশ্যই উন্মুক্ত।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কখনো হাল না ছাড়া’ এক দল হিসেবে মানুষ মনে রাখুক আর্জেন্টিনাকে

1

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩; বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ৩০ স

2

ঈদে মাংসের ভিন্ন স্বাদের ৪ রেসিপি জেনে নিন

3

‘আমাকে অসম্মান করবেন না’ মেসির সেই মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন র

4

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

5

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে অভিনেতা জাহে

6

আলোচিত সেই রেফারি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ পরিচালনা করবেন

7

২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

8

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখ

9

সবার ভালোবাসায় মনে হচ্ছে, আমার জন্ম সার্থক : চৈতী

10

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের রোডম্যাপে অগ্রগতি

11

টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

12

সৌদি আরব যেতে আর অপেক্ষা কত দিন দাম্মাম ফ্লাইট নিয়ে নতুন আপ

13

১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

14

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে জয়ের হাসি স্কটল্যান্ডের

15

বৃষ্টির পরও তেহরানে ভয়াবহ পানি সংকটের আশঙ্কা

16

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সহযো

17

পরের রাউন্ডে যেতে ব্রাজিলের সামনে যে সমীকরণ

18

স্থানীয় নির্বাচনে জোটে না যাওয়ার ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

19

অভিবাসী থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ইয়ামাল নিকোর সাফল্যের অনুপ্রের

20