অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মানসিক চাপ বাড়ায় নিখুঁত হওয়ার অতিরিক্ত প্রচেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত



 প্রতিটি কাজেই নিখুঁত হওয়ার চাপ তৈরি করে, তখন তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও অবসাদের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই স্বভাবকে বলা হয় পারফেকশনিজম (Perfectionism) এবং যারা এই সমস্যায় ভোগেন তাদের বলা হয় পারফেকশনিস্ট। পারফেকশনিস্ট বা পরিপূর্ণতাবাদীরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবাস্তব এবং অত্যন্ত উচ্চ মান নির্ধারণ করেন। তারা যেকোনো মূল্যে ভুল এড়াতে চান। ফলে ছোটখাটো দৈনন্দিন কাজও তাদের কাছে পাহাড়সম মানসিক চাপ (Mental stress) মনে হতে পারে।

এই জটিল সম্পর্কটি বোঝা এবং এই বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে আসার উপায় জানাটা জরুরি। তাহলে সমাধান সহজ হবে।

নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা তীব্র উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত, কারণ এটি অত্যন্ত উচ্চ মান পূরণ করার এবং যেকোনো মূল্যে ভুল এড়ানোর জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের কর্মক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন, সমালোচনার ভয় পান এবং মনে করতে পারেন যে নিখুঁতের চেয়ে কম কিছু মানেই ব্যর্থতা। এই ক্রমাগত স্ব-আরোপিত চাপ মনকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখতে পারে, যা ক্রমাগত উদ্বেগ, আত্ম-সন্দেহ এবং স্বস্তি পেতে অসুবিধার কারণ হয়।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আশঙ্কায় সাধারণ কাজও কঠিন মনে হতে পারে। অনেকেই একই কাজ বারবার যাচাই করেন, সংশোধন করেন কিংবা অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করেন। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

এ ধরনের মানুষ নিজেদের অর্জনের চেয়ে ছোটখাটো ভুল বা সীমাবদ্ধতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা বা অবাস্তব মানদণ্ডে নিজেকে বিচার করার কারণে অপূর্ণতা ও হতাশার অনুভূতি তৈরি হয়। এতে একদিকে উদ্বেগ বাড়ে, অন্যদিকে সেই উদ্বেগ আবার আরও নিখুঁত হওয়ার চাপ সৃষ্টি করে—যা একটি নেতিবাচক চক্রে পরিণত হয়।

নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা থাকা অনেকেই অনিশ্চিত পরিস্থিতি সহজে মেনে নিতে পারেন না। কোনো বিষয়ের ফল নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তারা অস্বস্তি অনুভব করেন। এমনকি ব্যর্থতার ভয় এতটাই তীব্র হতে পারে যে নতুন কিছু শুরু করা, ঝুঁকি নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকেও বিরত থাকেন।

কীভাবে এ চাপ কমানো যায়?বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো করার চেষ্টা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে তা যেন মানসিক সুস্থতা, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

উদ্বেগ কমাতে—

বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
ভুলকে শেখার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন।
নিখুঁত হওয়ার বদলে ধারাবাহিক অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিন।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন এবং অযথা আত্মসমালোচনা এড়িয়ে চলুন।
নমনীয় চিন্তাভাবনা গড়ে তুলুন এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে ধারাবাহিক উন্নতির মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে উদ্বেগ কমে এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা : ইসি সচিব

1

৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়েই দেশ ছাড়েন শেখ হা

2

ফল মানছেন না ফ্লাভিও বলসোনারো

3

গোলশূন্য ড্রয়ে ইকুয়েডর-কুরাসাও

4

এবার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখী হচ্ছে কি? জেনে নিন

5

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রপতির হৃদযন্ত্রে সফল স্টেন্ট স্থাপন

6

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপ ব্যর্থ হবে

7

তেজগাঁও বিভাগে ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৫২

8

আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলের হারিয়েছে আর্জেন্টিনা

9

হাসিনা ও কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ

10

মেসি-বার্সালোনা বিচ্ছেদের ৫ বছর

11

মেসি অবসর নেওয়ায় বাতিল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

12

আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা ও শারমিন

13

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার ৯ দেশ

14

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান–ওমান বৈঠক

15

তৃতীয় স্তরে নামল হামজার ক্লাব

16

আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে রাস্তায় নেমেছি: জামায়াত আমির

17

কাঁধে বই, হাতে বাদামের ঝোলা, ছোট্ট মাহিমের ওপর পুরো সংসার

18

অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাওয়া এক মায়ের ৩৮ বছরের সংগ্রাম! ফিরলেন স

19

বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর বাড়ছে নির্ভরতা

20