রাঙামাটির সাজেকে টানা ছয় দিন ধরে অবরোধ চলায় জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে পাহাড়ে জুমের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত হাটবাজার না বসায় কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না স্থানীয়রা। সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।
দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকেই আপাতত প্রধান পথ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার সাজেক সড়ক অবরোধের পঞ্চম দিনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার শাহাদাৎ এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ও মুরতজা আলী খান।
বৈঠকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলে।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে প্রশাসন সমঝোতার আশ্বাস দেয়। তবে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে প্রশাসন তিন সপ্তাহ সময় চায়। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা এ বিষয়ে পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। ফলে কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে প্রায় চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বাকি বিষয়টিও আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা জানান, তাঁদের মূল দাবি নিয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও অবরোধের সমর্থনে মাঠে নামেন সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতাকর্মীরা। বাঘাইহাট-মাচালং সড়কের ১৪ কিলোমিটার এলাকা, ২ নম্বর কালভার্ট, গঙ্গারাম লাদুমনি বাজার, বাঘাইহাট হাজাছড়া ও ১০ নম্বরসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সড়ক থেকে জ্বলন্ত টায়ার সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসকে সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য বিক্রি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন