মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সবচেয়ে ভয়াবহভাবে দেখা যাচ্ছে কৌশলগত জলপথ Strait of Hormuz-এ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে হাজার হাজার নাবিক এখন চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।
জাহাজ মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন Intertanko-এর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১০৫টি তেলবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজে প্রায় ২ হাজার ৪০০ নাবিক আট সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা International Maritime Organization জানিয়েছে, পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে প্রায় ২ হাজার জাহাজে প্রায় ২০ হাজার মানুষ একই ধরনের সংকটে পড়েছেন।
আটকে থাকা নাবিকদের মধ্যে একজন ভারতীয় অধিনায়ক রাহুল দাহার জানান, তাদের জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রণালির প্রবেশমুখে স্থির অবস্থায় রয়েছে। সামনে ও পেছনে বিপুল সংখ্যক জাহাজ আটকে থাকায় কোনোভাবেই চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
নাবিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে খাদ্য ও পানির সংকট ক্রমশ বাড়ছে। অনেক জাহাজে এখন টিনজাত খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, আর নিরাপদ পানির মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তাজনিত ভয়—ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের বন্দর সংক্রান্ত শর্তকে কেন্দ্র করে। এতে অনেক জাহাজ বন্দরে আটকে থাকায় সামগ্রিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জাহাজ পারাপারের জন্য উচ্চ অর্থ পরিশোধের শর্তও আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক নাবিক জানান, তারা ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকেই উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কবে এই সংকট কাটবে বা তারা কবে নিরাপদে ফিরতে পারবেন—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। আকাশে যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের টহল পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণে নাবিকদের বেতন ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে থাকলেও তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পাবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের সরিয়ে নিতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এই মানবিক ও বাণিজ্যিক সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন